রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু



অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু। হাজারও মানুষের ঘামে-শ্রমে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে মূল সেতুর নির্মাণ কাজ। পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হবে। সূচিত হবে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নবইতিহাসের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা মনোভাব এবং ঐকান্তিক চেষ্টায় শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণযজ্ঞ।  পরিকল্পনা মাফিক সবকিছু হলে তিন বছর পর পদ্মাসেতুতে চলবে গাড়ি ও ট্রেন। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়াপ্রান্তে সেতুর সার্ভিস পাইলিং এবং জাজিরাপ্রান্তে নদীশাসনের কাজ উদ্বোধন করবেন। আর প্রধানমন্ত্রীর সফল উপলক্ষে পদ্মাসেতু এলাকা সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।
এক নজরে পদ্মাসেতু
মূল সেতুর দৈর্ঘ্য : ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার
প্রস্থ : দ্বিতীয় তলায় (আপার ডেকে) ৭২ ফুটের চার লেনের সড়ক
রেললাইন : নিচ তলায় (লোয়ার ডেকে) ডাবল গেজ
পিলার সংখ্যা : ৪২ (নদীতে ৪০টি)
ভায়াডাক্ট : দুই প্রান্তে সর্বমোট ৩ দশমিক ১৮ কিলোমিটার
ভায়াডাক্ট পিলার : ৮১টি
পানির স্তর থেকে উচ্চতা : ৬০ ফুট
পাইলিং গভীরতা : ৩৮৩ ফুট
প্রতি পিলারের জন্য পাইলিং : ৬টি
মোট পাইলিং সংখ্যা : ২৬৪ টি
সংযোগ সড়ক : দুই প্রান্তে ১৪ কিলোমিটার
নদীশাসন : দুই পাড়ে ১২ কিলোমিটার প্রকল্পের মোট ব্যয় :২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ মূল সেতুতে
ব্যয় : ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ
নদীশাসন ব্যয় : ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ
অন্যান্য ব্যয় : ৭ হাজার ৯৫২ কোটি ১৯ লাখ
জনবল : প্রায় ৪ হাজার
নির্মাণকাজ শেষ : ডিসেম্বর, ২০১৮
সেতুতে যা থাকছে : গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার লাইন পরিবহন সুবিধা।

বাংলাদেশের যে ক্রিকেটারেরা স্থান পাচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগে

ক্রিকেটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এখন বইছে সুসম্পর্কের হাওয়া । দেশটি প্রায় সব ক্রিকেটাররাই ছুটে এসেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মাঠ কাঁপাতে। বিপিএল পাল্টে দিয়েছে বাংলাদেশ – পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আমুল চিন্তাধারা ।সেই ‘সু-বাতাসের’ জেরেই এবার পিএসএলে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশী ১০ ক্রিকেটারের নাম ।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। আগামী বছরের ৪ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ টুর্নামেন্ট হবে।
এর আগে জানানো হয় কেবল তামিম ও সাকিব পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি লিগে (পিএসএল) খেলবে। বিপিএলের শেষ মুহূর্তে জানা গেল ১০ জন টাইগারকে ডাকা হয়েছে নতুন বছরের ৪ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য এ আসরে।
পাঁচ ফ্রাঞ্চাইজির এ টুর্নামেন্টর জন্যে ৩০৮ ক্রিকেটারকে বাছাই করেছে পিএসএল গভর্নিং কাউন্সিল। এতে দেশি (পাকিস্তানের) ক্রিকেটারের সংখ্যা ১৩৭ ও বিদেশি ক্রিকেটার ১৭১ জন।
ক্রিকেটারদের পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে- প্লাটিনাম, ডায়মন্ড, গোল্ড, সিলভার ও ইমারজিং। চলতি মাসের ২১ ও ২২ ডিসেম্বর ক্রিকেটারদের দলে টানবে পাঁচ ফ্রাঞ্চাইজি। একটি ফ্রাঞ্চাইজি চাইলে ২০ জন ক্রিকেটারকে দলে নিতে পারবে। তবে বিদেশি চারজন ক্রিকেটারকে ম্যাচে খেলাতেই হবে।
বাংলাদেশের দশ ক্রিকেটার ওই খেলোয়াড় তালিকায় রয়েছেন। অনুমিতভাবেই সাকিব আল হাসান রয়েছেন। আইপিএল, বিগ ব্যাশ, সিপিএল খেলার অভিজ্ঞতা থাকা সাকিব নিশ্চিতভাবেই দল পাবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সাকিব ছাড়াও রয়েছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, এনামুল হক বিজয়, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক ও শাহরিয়ার নাফিস।এ ছাড়া দুই তরুণ তুর্কী মুস্তাফিজুর রহমান ও সৌম্য সরকারও আছেন। বিশ্ব ক্রিকেটকে তাক লাগিয়ে দেওয়া মুস্তাফিজুর রহমান যেকোনো দল পাওয়ার দাবি রাখেন।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (ওয়ানডে) মাত্র নয় ম্যাচে ২৬ উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজ চলতি বছরের আইসিসি বর্ষসেরা ওয়ানডে দলেও জায়গা করে নিয়েছেন। অন্যদিকে সৌম্য সরকার এরই মধ্যে নিজের আক্রমণাত্মক ও বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী সাকিব আল হাসান খেলোয়াড় তালিকায় সবার ওপরে আছেন। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ‘প্লাটিনাম’ ক্যাটাগরিতে সাকিবের জায়গা হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে অন্যান্য বিদেশি ক্রিকেটার হলেন ক্রিস গেইল, কেভিন পিটারসেন, শেন ওয়াটসন ও কুমার সাঙ্গাকারার মতো তারকারা। আছেন মাহেলা জয়াবর্ধনেও।
ডায়মন্ড ক্যাটাগরিতে না থাকলেও ‘গোল্ড’ ক্যাটাগরিতে আছেন বাংলাদেশে পাঁচ ক্রিকেটার। তারা হলেন- তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান, মুশফিকুর রহিম ও শাহরিয়ার নাফিস।
সিলভার ক্যাটাগরিতে আছেন মুমিনুল হক, ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও এনামুল হক বিজয়।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল)ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব বিক্রি করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আগামী ১০ বছরের জন্য ৯৩ মিলিয়ন ডলারে ৫টি ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব বিক্রি করা হয়েছে। ৫টি কোম্পানি করাচি, লাহোর, পেশাওয়ার, ইসলামাবাদ এবং কোয়েটা নামের দলগুলো কিনেছে।
করাচিকে কিনেছে এআরওয়াই গ্রুপ, কোয়েটাকে কিনেছে ওমর এসোসিয়েসটস, কাতার অয়েল কিনেছে লাহোর ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব। আর ইসলামাবাদকে কিনেছে লিওনাইন গ্লোবাল স্পোর্টস এবং পেশোয়ারকে কিনেছে হায়ার গ্রুপ।
এ প্রসঙ্গে পিএসএল চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি বলেছেন, ‘যারা স্বত্ব কিনেছেন তাদের বৈশিষ্ট্য এই যে তারা ক্রিকেটের দুর্দান্ত ভক্ত। তাদের ক্রিকেটের এই আকর্ষণই লিগকে সফলতার পর্যায়ে নিয়ে যাবে। কোচদের নাম পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে। আর খেলোয়াড়দের খসড়া এই মাসের শেষেই চূড়ান্ত হবে।’
পিএসলের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে থাকবে হাবিব ব্যাংক। ম্যাচগুলো পাকিস্তান টেন স্পোর্টস এবং পিটিভি স্পোর্টসে সম্প্রচার করা হবে।
টুর্নামেন্টটি ৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হবে ২৩ ফেব্রুয়ারি। সবগুলো ম্যাচ হবে দুবাই এবং শারজায়।